Adi Sikha - আদি শিখা
6 members
1 photo
22 links
পড়ুন গল্প, উপন্যাস, প্রেম কাহিনী, ভৌতিক কাহিনী, রহস্য-সাসপেন্স, থ্রিলার, আধ্যাত্মিক, রূপকথা, শিশুসাহিত্য, কল্পবিজ্ঞান এবং অন্যান্য।
Download Telegram
to view and join the conversation
• আদি শিখা কি?

- আদি শিখা হল গল্প, উপন্যাস, ও প্রবন্ধ পড়ার অনলাইন প্লাটফর্ম (website)। আদি শিখাতে প্রেম, ভয়, ভূত, সামাজিক, সাসপেন্স-থ্রিলার, কল্পবিজ্ঞান, আধ্যাত্মিক, রূপকথা, শিশু সাহিত্য, সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

• আদি শিখার পাঠক কারা?

- যে সমস্ত মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, সমালোচনা প্রভৃতি পড়তে ভালবাসেন তারাই আদি শিখার পাঠক।

• আদি শিখার লেখা পড়ার জন্য কি কোনো মূল্য বা টাকা খরচ করতে হবে?

- একদম না। আদি শিখা একটি ফ্রি অনলাইন গল্প পড়ার প্লাটফর্ম। এর জন্য আপনাকে কোনো মূল্য বা টাকা খরচ করতে হবে না।

• আদি শিখায় প্রকাশিত গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ আমি কিভাবে পড়ব?

- আদি শিখায় প্রকাশিত লেখা পড়ার জন্য আপনাকে ইন্টারনেটে https://www.adisikha.com সার্চ করতে হবে। সার্চ করার পরে আপনি আমাদের website এ চলে আসবেন এবং সেখানেই সমস্ত লেখা পাবেন। এরপর লেখা গুলো পড়া শুরু করুন।

* আর কোনো প্রশ্ন আছে?

- অন্য কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের Facebook Page এ Message করুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে।

আমাদের Facebook Page এর লিঙ্ক:
https://facebook.com/adisikhaa

ধন্যবাদ।
আদি শিখা।
অস্তিত্ব Astitya - একটি সামাজিক গল্প

""মামার বাড়ি যাবার পর মামা আমাকে একটি যন্ত্র দেয় যার সাহায্যে বিভিন্ন জীবজন্তুর কথা মানুষের ভাসায় শোনা যায়। সেই যন্ত্রটি ব্যবহার করার ফলে মনুষ্যত্ব সম্পর্কে আমার নতুন ধারণা জন্মায়। শেষ পর্যন্ত কি ঘটল.....""

অস্তিত্ব



আমার ছোট মামা বন দফতরের একজন কর্মচারী। তার বর্তমান পোস্টিং সুন্দরবন এ। অনেকদিন ধরে মামা সেখানে যাওয়ার জন্য বলছিল। যতবার প্ল্যান করেছি যাওয়ার জন্য ততবার প্ল্যানটা মাটি হয়ে গেছে কোন না কোন কাজের জন্য। তাই ভাবলাম এবার যেতেই হবে। ঠিক করলাম কালই রওনা দেব।

টানা ছয় ঘন্টা যাত্রা করে মামার বাসায় যখন পৌছালাম তখন দুপুর। আমাকে দেখে মামা বেশ খুশি হলো। এরপর বাড়ির সবার খোঁজ খবর নিয়ে মামা বলল, "অনেক জার্নি করে এসেছিস, স্নান খাওয়া করে একটু চাঙ্গা হয়ে নে। বিকেলে তোকে বন দেখাতে নিয়ে যাবো।"

স্নান খাওয়ার পর আমি আর মামা বিছানায় বসে কথা বলছি। সুন্দরবন এ কি কি গাছ ও জীবজন্তু দেখা যায় সেগুলো আমাকে গল্প করে শোনাচ্ছে। বিছানার পাশের টেবিলে একটা যন্ত্র দেখে মামাকে জিজ্ঞেস করলাম, "এটা কি মামা?"

" এটা একটা গান শোনার আইপড। জাপান থেকে আমার এক বন্ধু পাঠিয়েছে। গান শোনা ছাড়া এই যন্ত্র টার আরও একটা বিশেষ দিক আছে। হেডফোন লাগানোর খাঁজের পাশে যে সবুজ সুইচটা আছে সেটাতে চাপ দিলে যেকোনো জীবজন্তুর কথা মানুষের ভাষায় শোনা যায়।", বলল মামা।

এ ব্যাপারটা আমার বেশ ভালো লাগলো। এরপর আমাদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করার জন্য মামা তার অফিসে গেল।



ঘরের মধ্যে দুটো মশা উড়ছে।

প্রথম মশা- বাসায় নতুন শিকার এসেছে ভাই (আমাকে দেখে)।

দ্বিতীয় মশা- তাহলে আবার দেরি কেন। শুরু হোক রক্তচোষা।

এই বলে দ্বিতীয় মশা টি উড়তে উড়তে আমার দিকে আসা শুরু করলো। মাথার চারপাশে চক্কর দিয়ে আমার গালে বসল। যেইনা মশাটা আমার গালে হুল ফুটিয়েছে অমনি গালে একটা চাঁটি দিলাম। সঙ্গে সঙ্গে মশাটা মাটিতে পড়ে গেল।

এমন সময় আমি শুনতে পেলাম প্রথম মশা টা বলছে, "ওরে বাবা, কি সাংঘাতিক। না পালালে এবার হয়তো আমাকে মারবে।"

এই কথা বলে মশাটা জানালা দিয়ে পালিয়ে গেল।



একটু পরেই শুনলাম মামা ডাকছে, "চল এবার বেড়াতে যাব।"

বাইরে এসে দেখি দুটো হাতি 🐘 দাঁড়িয়ে আছে।

"আমরা কি হাতি চড়ে বন দেখবো মামা।"

"হ্যাঁ, তোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করলাম ভাগ্নে"

আমি আর মামা একটা হাতির পিঠে চড়লাম আর অন্যটায় চড়ল মামার অফিসের দুই বন্ধু। শুরু হল বনভ্রমন।

চারিদিকে কত সব জীবজন্তু - হরিণ, বুনো মোষ, বানর, ভাল্লুক, বাঘ - আরও কত কি। কিন্তু এসবের মাঝে একটা ব্যাপার বেশ লক্ষণীয়। আর সেটা হল সব জীবজন্তু আমাদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করছে। মনে হচ্ছিল তারা যেন আমাদেরকে কিছু বলতে চাইছে। খুব আফসোস হচ্ছিল আইপড টা সঙ্গে না নিয়ে আসার জন্য। তাহলে জানা যেত তারা ঠিক কি বলছে।

খুব অল্পের জন্য আমি একটা দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলাম। অন্যান্য জন্তুগুলোর চিৎকার শুনে হঠাৎ হাতিটা লাফালাফি শুরু করে দিল। আমি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম। ভাগ্যিস মামা আমাকে সেই সময় ধরে নিয়েছিল। সারা বিকেল আমরা বন দেখে বেড়ালাম এবং ফিরলাম সন্ধ্যাবেলায়।



রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। মামা দিব্যি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। তাই আমি আইপড টা নিয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনা শুরু করলাম। এমন সময় ঘটল এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা। সেই কোথায় আজ বলব। বাড়ির এর পিছনে কিছু জন্তু-জানোয়ারের চিৎকার করছে। মনে হচ্ছে তারা যেন কোন বিষয়ে গভীর আলোচনা করছে। ঠিক কিছু বোঝা যাচ্ছে না। তাই কৌতুহল নিবারণের জন্য সবুজ সুইচটা অন করলাম।

তারপর কি হল জানার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করে গল্পের বাকি অংশ পড়ুন :
http://bit.ly/2ZEZBqg
শ্মশানের ভূত - একটি ভৌতিক গল্প
প্রথম পর্ব

""মেস থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয় এবং বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য শ্মশানের পাশে একটি বটগাছের নিচে আশ্রয় নিই। সেখানেই এক প্রেতের পাল্লায় পরি। শেষ পর্যন্ত কি হল জানার জন্য গল্পটি পড়ুন।""

শ্মশানের ভূত - একটি ভৌতিক গল্প
প্রথম পর্ব
এক

পাঁচ বছর আগের ঘটনা। আমি তখন পড়াশোনার জন্য মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরের একটি মেসে থাকতাম। একদিন কলেজ থেকে ফিরে এসে বিশ্রাম নিচ্ছি এমনসময় ফোনটা বেজে উঠলো। দেখলাম মা ফোন করেছে।

ফোনটা ধরে বললাম, "হ্যাঁ মা,বলো।"

"তুই বাড়ি আসছিস কখন?" মা জিজ্ঞেস করল।

"কাল যাব মা। আমি এখন খুব ক্লান্ত। এইমাত্র কলেজ থেকে ফিরলাম।"

"কাল বাড়িতে পুজো মনে আছে তো, না সেটা ভুলে গেছিস।"

"পূজো তো কালকে। তবে আজকে কি করব?"

"পুজোর আগে অনেক কাজ থাকে। তোর বাবা একাই আর কতদিক সামলাবেন বল। তুই থাকলে ওনার ভালো লাগবে। তাছাড়া ঠাকুর মশাই এর কাল খুব তাড়া আছে। উনি বলে দিয়েছেন সকাল ৯ টার মধ্যে পুজো করে চলে যাবেন।"

এই ঠাকুরমশাই হলেন রতন চট্টোপাধ্যায়। এককালে তান্ত্রিক হওয়ার জন্য অনেক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংসার জীবনের আকর্ষণের কাছে হার মেনে বর্তমানে পূজো ও জ্যোতিষ বিদ্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

মা শেষে বলল, "আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না। তুই আজকে আসবি।"

আমি আর কথা বাড়ালাম না। বললাম, "আচ্ছা আসছি।"

তখন বুঝতে পারিনি কোন ভয়াবহ বিপদ আমার জন্য অপেক্ষা করছে। সেটা জানা থাকলে কোন মতেই সেদিন বাড়ি যেতাম না

দুই

এই অবেলায় কোন গাড়ি পাওয়া যাবে না। তাছাড়া আকাশে মেঘ ঘন কালো হয়ে আসছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। তাই আর দেরি না করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। মোটে ১৫ কিমি পথ। মাঝখানে গঙ্গা পার হতে হয় নৌকা করে। নৌকা থেকে নেমে খুব জোরে সাইকেল চালানো শুরু করলাম। মনে হচ্ছে যে কোন সময় বৃষ্টি শুরু হবে।

গ্রামে ঢোকার রাস্তায় একটা শ্মশান পড়ে। এককালে এই শ্মশানের খুব বদনাম ছিল। জায়গাটা নাকি এক সময় ভূত প্রেতের আড্ডা ছিল। যত সব মিথ্যেবাদীর দল।

এই শ্মশানের কাছে আসতেই শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি। তাড়াতাড়ি শ্মশানের পাশে একটা গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টির সাথে সাথে অন্ধকার চারিদিকটা ঘিরে ফেলল।

একনাগাড়ে বৃষ্টি পড়ছে। থামার কোনো নাম নেই। মাঝে মাঝে মনে হতো লাগলো মেঘ দেবতা বুঝি সংসারের সমস্ত ক্রোধ আমার উপর বর্ষণ করছেন। কিছুক্ষণ পর দেখি একটা লোক খালি গায়ে শ্মশানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বৃষ্টির জন্য ঠিক চিনতে পারলাম না। মনে হল লোকটা আর কেউ নয় আমাদের গ্রামের রামলাল পাগল।

আমি তাকে গলা হাঁকিয়ে বললাম, "রামলাল বৃষ্টিতে ভিজছো কেন? এখানে এসে গাছের নিচে দাড়াও।"

রামলাল কোন জবাব দিলো না। এক মনে সে কিছু খুঁজছে। শ্মশানের পোড়ানো চিতা গুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। একটা দেখা হয়ে গেলে আরেকটা, তারপর আবার আরেকটা, আবার, আবার।

গায়ের লোম ক্ষনে ক্ষনে খাড়া হয়ে যাচ্ছে। ঠিক বুঝতে পারলাম না এর জন্য কে দায়ী - ভয় না ঠান্ডা বাতাস। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে এই বুঝি শ্মশানের মাটি ফেলে একটা কঙ্কালের হাত বেরিয়ে এসে আমার পা টেনে ধরবে। আশঙ্কা টা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এমন সময় পাশে কেউ থাকলে মনে একটু সাহস পাওয়া যেত।

"রামলাল, ও রামলাল। ওখানে কি করছ? এখনে এসো।"

রামলাল আবার নিরুত্তর।

আমার মনে হলো পাগল রা বোধহয় কালা হয়। তা না হলে এত বড় ডাকার পরেও শুনতে পাবে না। আবার তাকে নিরীক্ষণ করা শুরু করলাম।

এরপর রামলাল একটা সদ্য পোরানো চিতার পাশে দাঁড়িয়ে গেল। এখনো চিতা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সে আর নড়ল না। মনে হয় যা খুঁজছিল তা পেয়ে গেছে।

রামলাল একটা চিতার পাশে বসে আধপোড়া কাঠ গুলো হাত দিয়ে সরাতে লাগলো। সর্বনাশ। আমি মনে মনে প্রমাদ গুনলাম। এই কান্ড অন্য কেউ দেখলে তাকে আস্ত রাখবে না। পাগল বলে তো সবাই তাকে ছেড়ে দেবে না।

"রামলাল থামো, থামো বলছি।"

পাগল টা সত্যি কালা মনে হচ্ছে। ওকে থামাতে হবে। তা না হলে আজ একটা চরম কান্ড বাঁধিয়ে ছাড়বে। তার দিকে হেঁটে গিয়ে তাকে ঝাঁকানোর জন্য তার পিঠে হাত দিলাম। কিন্তু একি, তার শরীর একেবারে বরফের মত ঠান্ডা। তৎক্ষণাৎ হাত সরিয়ে নিয়ে দু পা পিছিয়ে এলাম। পিঠে হাত দেওয়ার সাথে সাথে রামলাল থেমে গেল এবং মুখ দিয়ে একটা গোঁ গোঁ শব্দ করা শুরু করল।

"এসব কি করছ? আমার কথা কি কানে যাচ্ছে না।"

আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সে ধীরে ধীরে উঠে আমার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। এতো রামলাল নয়।

প্রথমে খেয়াল করনি। কিন্তু তার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আতকে উঠলাম। দেখলাম লোকটার চোখের জায়গায় দুটো কলো গর্ত এবং সেই গর্তের গভীরে জ্বলছে দুটো সাদা আলো......

গল্পের বাকি অংশ পড়ার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন :
http://bit.ly/2OKE5zF
শ্মশানের ভূত - দ্বিতীয় পর্ব - সুরেশ কিভাবে প্রেতাত্মার হাত থেকে রক্ষা পেল??

জ্ঞান ফিরল পরদিন সকাল নটায়। ততক্ষণে ঠাকুরমশাই বাড়ির পুজো করে ফেলেছেন। বাড়ির সবাই আমাকে চারপাশে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরকে দেখে বুঝতে পারি কাল জ্ঞান হারানোর পর বাবা আমাকে শ্মশান থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে।

বাবা জিজ্ঞেস করলেন, "কাল তুই শ্মশান ওভাবে ছুটে বেড়াচ্ছিলি কেন আর আমাকে দেখে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলি কেন?"

আমি কিছু বলার আগেই মা শাসনের সুরে জিজ্ঞেস করলেন, "সবার আগে তুই বল শ্মশানে গিয়েছিলি কেন?"

রতন ঠাকুর তখনও বাড়িতে ছিলেন। তিনি কালী পুজোর প্রসাদ এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সবাইকে থামিয়ে রতন ঠাকুর আমাকে বললেন, "শোনো এভাবে কিছু বোঝা যাবে না। সুরেশ এক কাজ করো কাল ঠিক কি কি হয়েছিল বলোতো।"

আমি পুরো ঘটনাটা বললাম।

( বি দ্রঃ : এই গল্পটি ভালোভাবে বোঝার জন্য আপনাকে প্রথম পর্ব টা পড়তে হবে।)

সব কথা শুনে মা কান্না শুরু করে দিল। বলল, " বাবা, আর কোনো দিন শ্মশানের রাস্তা দিয়ে বাড়ি আসবি না।"

সমস্ত ঘটনা শুনে ঠাকুর মশাই বললেন, "খুব জোর বেঁচে গেছে সুরেশ। কাল তুমি এক দুষ্টু প্রেতাত্মার পাল্লায় পড়ে ছিলে। এক ধরনের প্রেত আছে যারা অনেকটা ডাকিনীর মত। এরা ব্রহ্মদৈত্য নামে পরিচিত। নির্জন স্থানে কাউকে একা দেখলে তার সামনে মায়া সৃষ্টি করে। তারপর তাদের গলা মটকে নিজের দলের ওজন বৃদ্ধি করে। তুমি ওই গাছের নিচে দাঁড়ান মাত্র সে মায়ার সৃষ্টি করেছিল। গতকাল শ্মশানে কাউকেই পোড়ানো হয়নি। সব ই তার মায়া ছিল। যতদূর মনে হয় নির্জন স্থান দেখে সে ওই বট গাছে আস্তানা গেড়েছে।"

"কিন্তু ঠাকুর মশাই তার মায়া যদি এতই ভয়ানক তবে সে আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি কেন?"

ঠাকুর মশাই আমার হাতে বাঁধা একটা লাল সুতোর দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, "গত বছর কালি পূজোর পর এই সূতোটা তোমার মা তোমার হাতে বেঁধে দেয়। এই প্রবিত্র সূতোর শক্তির জোরেই প্রেত তোমাকে স্পর্শ করতে পারেনি।"

"দেখলি বাবা, আমি বলেছিলাম না এই সূতো হাতে বাঁধা থাকলে কেউ তোর অনিষ্ট করতে পারবে না। প্রতি বারেই তোকে জোর করে পরাতে হয়।", মা আবার কান্নার সুরে বলল।

ঠাকুর মশাই আবার বললেন, "কিন্তু যখন তুমি তাকে নিজে থেকেই স্পর্শ করো তখন তার মায়া দুর্বল হয়ে যায়। তার আসল রূপটা ধীরে ধীরে তোমার সামনে উন্মোচন হওয়া শুরু হয়। তুমি শুধু তার চোখের সাদা গর্তটা দেখেছিলে কিন্তু আরও কিছুক্ষণ ওভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকলে দেখতে একটা কঙ্কাল তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। মায়া ভেঙে যাওয়ার পর আর কোন উপায় না দেখে সে তোমাকে তাড়া করা শুরু করে এবং চেষ্টা করে যেন যে কোনো প্রকারে তোমার হাত থেকে সূতোটা খুলে পড়ে যায়। আর সেটা হলেই তোমার চরম সর্বনাশ হতো। কিন্তু কথায় আছে রাখে হরি মারে কে। তোমার মায়ের বিশ্বাস আর কালী মায়ের আশীর্বাদ এর জন্য এযাত্রায় বেঁচে গেলে সুরেশ।"

বাবা বললেন, "ঠাকুর মশাই, আমি সেই পেতাত্মা কে দেখতে পেলাম না কেন? আমিও তো সেখানেই উপস্থিত ছিলাম। সুরেশ তো আমার সামনেই অজ্ঞান হয়ে গেল।"

গল্পের বাকি অংশ পড়ার জন্য নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন:
http://bit.ly/2KqVCsl
শ্মশানের ভূত - তৃতীয় পর্ব

"এই পর্বে আপনারা জানবেন রতন তান্ত্রিক কিভাবে ব্রহ্মদৈত্য কে তাড়ালেন এবং গ্রামবাসীকে তার মায়াজাল থেকে মুক্ত করলেন?"

রতন ঠাকুরের সাথে আমরা সবাই শ্মশানের সেই বট গাছের কাছে উপস্থিত হলাম। রাস্তার একপাশে শ্মশান আর অপর পাশে পুকুর। বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছে গাছটা আর পাঁচটা গাছের মত। কিন্তু আমি জানি এই গাছে লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য বিভীষিকা, এক ব্রহ্মদৈত্য।

ঠাকুর মশাই প্রথমে বটগাছটাকে ভালো ভাবে নিরীক্ষণ করলেন। তিনি কি বুঝলেন তিনিই জানেন। এরপর তিনি মাটি থেকে একটা কাঠি নিয়ে পাত্রের মধ্যে ডুবিয়ে তা থেকে কিছুটা জল আমার গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে বললেন, "সুরেশ, এখানে উপস্থিত সব মানুষের গায়ে তাড়াতাড়ি চান জল ছিটিয়ে দাও।"

আমি সবার গায়ে চান জল ছিটিয়ে পাত্রটা ঠাকুর মশাই কে দিলাম।

তারপর তিনি বটগাছের চারিদিকে জল দিয়ে একটা বৃত্ত তৈরি করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "এটা কি করছেন, ঠাকুর মশাই?"

"এটার নাম "চক্রাবদ্ধ"। এর কাজ যথাসময়ে জানতে পারবে।", তিনি বললেন।

সবাইকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, "সবাই শোনো, আমি যতক্ষণ না বলব এই গাছের কাছে কেউ আসবে না।"

তারপর তিনি যা করলেন তা দেখে সবাই ভয়ে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। পাত্র থেকে কিছুটা জল নিয়ে তিনি বটগাছের ছিটিয়ে দিলেন। প্রথমে বট গাছের একটা ডাল নড়ে উঠলো, তারপর গোটা গাছ টা দুলতে শুরু করল। মনে হলো এইমাত্র কারো ঘুম ভাঙলো। এরপর শুনতে পেলাম একটা গম্ভীর ও কর্কশ গলা, "কে, কার এত বড় সাহস যে আমার ঘুম ভাঙায়?"

আবার ব্রহ্মদৈত্য র সেই রক্ত হিম করা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম "এই অসময়ে কার মরার বাসনা জেগেছে। দেবো এখনই সবকটার গলা মটকে।"

ঠাকুরমশাই দেখি দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে মুখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। তিনি ঠাণ্ডা গলায় বললেন, "আমি, আমি তোর ঘুম ভাঙিয়েছি।"

"তোর কি বাঁচার ইচ্ছে শেষ হয়ে গেছে? এত বড় সাহস ব্রহ্মদৈত্য র ঘুম ভাঙাস।", অদৃশ্য প্রেত বলল।

"তবে রে, তুই প্রেত সিদ্ধ রতন তান্ত্রিক কে ভয় দেখাস। এক সময় তোর মত হাজার হাজার প্রেতাত্মার মাঝখানে বসে এই শ্মশান ভূমিতে আমি তন্ত্র সাধনা করেছি। দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা।", এই বলে তিনি পাত্র থেকে কিছুটা চান জল হাতে নিয়ে বট গাছের সেই ডালের দিকে ছুড়ে দিলেন।

সঙ্গে সঙ্গে গাছ থেকে একটা আর্তচিৎকার ভেসে আসলো। দেখলাম গাছের সেই ডালে একটা মানুষের আকৃতির আগুন জ্বলছে। বুঝলাম ঠাকুরের মন্ত্র বলে ব্রহ্মদৈত্য র গায়ে আগুন লেগে গেছে।

গল্পের বাকি অংশ পড়ার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন:
http://bit.ly/2yXDMH0
🔥রাখী বন্ধন কেন পালন করা হয়

রাখী বন্ধন ভারতের একটি জনপ্রিয় উৎসব। এই উৎসব হলো ভাই ও বোনের উৎসব। রাখী বন্ধনের দিন দাদা বা ভাইয়ের হাতে দিদি বা বোনেরা রাখী পরিয়ে দেয়।

রাখি বন্ধন উৎসব হিন্দু ধর্ম, জৈন ধর্ম ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে পালন করা হয়। ইসলাম ধর্মের অনেক ভাই-বোন এই উৎসব পালন করে থাকে।

ভাই ও বোনেরা কেন রাখী বন্ধন উৎসব পালন করে?

রাখী কেবলমাত্র একটি সূতো নয়। রাখী পরানোর মাধ্যমে দিদি বা বোনেরা ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে এবং ঈশ্বরের কাছে তাদের মঙ্গল কামনা করে।

অপরদিকে ভাইয়েরা দিদি বা বোনের কাছে রাখি পড়ার সময় তাদের আজীবন রক্ষা করার শপথ নেয়।

রাখী বন্ধন উৎসব কখন পালন করা হয়?

ভারতবর্ষে এই উৎসব শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমার দিন পালন করা হয়। এজন্য অনেক সময় রাখী বন্ধন উৎসব কে রাখী পূর্ণিমা ও বলা হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রাখী বন্ধন

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন।

তিনি কলকাতা, ঢাকা ও সিলেট থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই ও বোন কে আহ্বান করেছিলেন একতার প্রতীক হিসাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার জন্য।

সেই সময় দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা চরম পর্যায়ে ছিল। আমরা আজ ১৫ ই আগস্ট ২০১৯ সালে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করছি। কিন্তু ১০০ বছরেরও বেশি সময় আগে হিন্দু ও মুসলিম এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একতা আনার জন্য রাখী বন্ধন উৎসব পালন করা হয়েছিল।

উনিশ শতকে আমাদের বাংলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চরম পর্যায়ে ছিল যা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে অপরিমিত ভয়ের কারণ। এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় তারা বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করবে। সেই সময় রবীন্দ্রনাথ সহ গোটা ভারতের বিভিন্ন নেতা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিল এবং বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

১৯০৫ সালের জুন মাসে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯০৫ সালের আগস্ট মাসে বঙ্গভঙ্গ জন্য আইন পাশ করা হয়। এই আইন কার্যকরী হয় ১৬ ই অক্টোবর, ১৯০৫।

শ্রাবণ মাসে হিন্দু ভাইবোনদের মধ্যে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ জাগিয়ে তোলা এবং ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে রাখী বন্ধন উৎসব পালন করার জন্য আহ্বান করেন।

ইতিহাসে রাখী বন্ধন এর প্রমাণ

কৃষ্ণ ও দ্রৌপদী

মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণর হাতে আঘাত লেগে রক্তপাত হলে দ্রৌপদী তার হাতে কাপড় বেঁধে দেয়। তখন তিনি দ্রৌপদীকে নিজের বোন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ এর সময় কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে তার প্রতিদান দেয়।

রানী কর্ণবতী ও সম্রাট হুমায়ুন

১৫৩৫ সালে গুজরাটের সুলতান বাদশা চিতোর আক্রমণ করলে চিতোরের রানী কর্ণবতী হুমায়ুনের সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং তার কাছে একটি রাখী পাঠান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হুমায়ুন চিতোর রক্ষা করতে পারেননি কারণ তিনি চিতোর পৌঁছানোর আগেই বাহাদুর শাহ চিতোর জয় করে নিয়েছিলেন। বিধবা রানী কর্ণবতী নিজেকে রক্ষা করতে না পেরে এবং বাহাদুর শাহ এর হাত থেকে বাঁচার জন্য ১৩০০০ স্ত্রীকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে জহর ব্রত পালন করেন। পরে হুমায়ুন চিতোর জয় করে কর্ণবতির ছেলে বিক্রম সিংহ কে রাজা ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: http://bit.ly/2KLJYHA